চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

সিএমপি’র হালনাগাদ নেই নিখোঁজদের তালিকা

৪ মার্চ, ২০২০ | ২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

সিএমপি’র হালনাগাদ নেই নিখোঁজদের তালিকা

নিখোঁজের ব্যাপারে গত ৩ বছরের সঠিক তথ্য নেই নগরীর ষোলটি থানায়। পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু নিখোঁজ নয়, বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কাজ করছি’

নিখোঁজদের হালনাগাদ তথ্য নেই চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)। ২০১৬ সালে শোলাকিয়া ও গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর নিখোঁজের একটি তালিকা তৈরি করেছিলো সিএমপি। ওই তালিকায় ১২০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির নাম থাকলেও পরবর্তীতে হাতেগোনা কয়েকজন ফিরে থানায় হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু গত তিন বছরে সিএমপির ষোল থানায় কতজন নিখোঁজ রয়েছে তার তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। তালিকায় যারা নিখোঁজ ছিলেন তাদের সম্পর্কেও রাখা হয়নি হালনাগাদ তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, জঙ্গিদের ব্যাপারে আমাদের নজরদারি আছে। এ কাজে শৈতিল্য দেওয়া যায় না। কারণ তাদের হঠাৎ হঠাৎ তৎপর হতে দেখা যায়। নিখোঁজদের নজরদারি প্রসঙ্গে ডিসি শওকত আলি বলেন, ২০১৬ সাল পরবর্তী নিখোঁজদের তালিকা প্রসঙ্গে আমার জানা নেই। কারণ আমি কাউন্টার টেরোরিজমের দায়িত্ব নিয়েছি কয়েকমাস আগে। তবে পুলিশ বক্সে

বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু নিখোঁজ নয়। বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। আলাউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপের মুসাপুর। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল চান্দগাঁও থানায় তার বাবা ফোরকান উদ্দিন একটি সাধারণ ডায়েরি করে বলেন, তার ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
সাব্বিরুল হক চৌধুরী কনক জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে (আইআইইউসি) অর্থনীতি বিভাগে পড়তেন। রাউজানের বন্ধুর বাসায় যাওয়ার নাম করে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরে ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর আদায়কারীর চাকরি করতেন। ঢাকায় গিয়ে চেহারা দেখেও ছেলেকে স্বীকার করতে পারেননি। পুত্রশোকে কিছুদিন আগে তিনিও মারা যান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

২০১৫ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছে জোরারগঞ্জ মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের মৃত মনির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদ ওরফে রুবেল। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক জঙ্গি নেতা পুলিশকে জানিয়েছে রুবেল জঙ্গি গ্রুপ জেএমবি’র প্রথম সারির একজন নেতা।
নৌ প্রকৌশলী নজিব উল্লাহ আনসারী পরিবারের সাথে থাকতেন নগরীর ইডিজেড থানার নাবিক কলোনিতে। গ্রামের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ। বাবা রফিক উল্লাহ আনসারী নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই ছেলের সন্ধান চেয়ে ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ২৮ বছর বয়সী নৌ প্রকোশলী নজিবুল্লাহ তার ভাইয়ের ফেসবুকে আইএস এ যোগ দেয়ার কথা জানান। এরপর থেকে পরিবারের সাথে আর কোন যোগাযোগ করেননি তিনি। বাবার চাকরিসুত্রে নগরীতে বড় হওয়া নজিবুল্লাহর জন্ম ১৯৮৭ সালে। হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও ২০০৭ সালে এইচ এস সি পাশ করেন জিপিএ-৫ পেয়ে। এইচএসসি পাশের পর মালয়েশিয়া মেরিন একাডেমিতে পড়তে যান। সেখানে থাকার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে জাহাজে চাকরি নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম ও আশেপাশের অঞ্চলের এ ধরনের ১০ জনেরও বেশি যুবক ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকিও সেভাবে নেই।

বর্তমান ডিআইজি (পিবিআই) বনজ কুমার মজুমদার চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জঙ্গিদের তদারকির জন্য আলাদা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তিনি জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের সপ্তাহে একবার করে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হাজিরার নিয়ম চালু করেন। এভাবে তিনি জঙ্গিদের কার্যক্রমের উপর নজরদারির উদ্যোগ নেন। বর্তমানে জঙ্গিদের কার্যক্রম দেখভাল করা এবং মামলা তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। নগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার ষোলশহর পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর সন্ত্রাসাবিরোধী আইনে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার ও জামিনে বের হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কথা বলে জানা যায়, সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে অনেক পরিবার সন্তান জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবার পর তা আর কাউকে জানায়নি। অনেক সন্তান মারা গেছে, কিন্তু খবর নেয়নি।

২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর নিখোঁজ হয় নগরীর কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র নাসিফ উল ইসলাম। বাবা নজরুল ইসলাম এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেন। তার সন্ধান করতে গিয়ে নগরীর সদরঘাটে আশফাক ও রকিব নামে দুই আত্মঘাতী জঙ্গি সদস্যের সন্ধান পায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে

জানায়, মেজবাহ নামে আরেক আত্মঘাতী জঙ্গি সদরঘাট এলাকায় বাসা ভাড়া করে দেয়। এ সময় তারা জানান, কাজেম আলি স্কুল থেকে নিখোঁজ নাসিফের সাংগঠনিক নাম আবদুল্লাহ। পুলিশ পরবর্তীতে মেজবাহ ও নাসিফকে খুঁজে পায়নি। ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি রাজধানীর ঢাকার নাখালপাড়ার রুবি ভিলার ছয় তলা ভবনের পঞ্চম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবেব অভিযানে নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে দুই জঙ্গির ছবি প্রকাশের পর নাসিফের পরিচয় পাওয়া যায়।
নগরীর ডবলমুরিং এলাকার সাদমান সৌমিক ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড
টেকনোলজি থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল ফজরের নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে একবার যোগাযোগ করে বলেছিলেন, তার জন্য যেন কেউ চিন্তা না করে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 215 People

সম্পর্কিত পোস্ট