চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

বিএনপি-জামায়াত নয় নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বড় শত্রু

৩ মার্চ, ২০২০ | ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান

বিএনপি-জামায়াত নয় নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বড় শত্রু

‘আওয়ামী লীগ সৎ, যোগ্য মেয়র প্রার্থী পেয়েছে’

নানা ঘটনায় বিতর্কিত যুবলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ‘অতীতের গ্লানি মুছে ফেলার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের ঐক্য ধরে রাখা। বিরোধ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। বিএনপি-জামায়াত এখন আমাদের শত্রু নয়।’

গতকাল সোমবার নগরীর জামালখানে রিমা কনভেনশন সেন্টারে যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে কাজ করতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দল এক যুগের বেশি সরকার পরিচালনা করছে। এ কারণে অনেকের মধ্যে মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছে। ভুলে গেলে চলবে না, এই সংগঠনের পেছনে আপনাদের অনেক ত্যাগ আছে। কিন্তু আমরা এটি খুব সহজেই ভুলে যাই। যুবলীগের প্রতি জনগণের অনেক আশা, আপনাদের অনেক আশা, জননেত্রীর অনেক আশা। দয়া করে এই যুবলীগের মান আপনারা রক্ষা করবেন। কোনোদিন শেখ ফজলুল হক মনির যুবলীগের মাথা যেন আপনাদের মাধ্যমে খাটো না হয়। এই জায়গাটায় আপনারা মনোযোগ দেবেন এবং সচেতন থাকবেন।

সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, উত্তর জেলা আ. লীগের সভাপতি এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও যুবলীগ নেতা শেখ নাইমসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয়, নগর ও জেলা কমিটির নেতারা।
পরশ বলেন, আমাদের শত্রু জামাত-বিএনপি নয়। নিজেরাই নিজেদের শত্রু। কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা আপনাদের ভাইকে শত্রু বানাবেন না, ভাইদের শত্রু ভাববেন না। আওয়ামী লীগ খুব সৎ, যোগ্য একজনকে মেয়র প্রার্থী পেয়েছে। যিনি বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স), যার নেতৃত্বে ছিলেন আমার বাবা। তিনি সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন দেশপ্রেমিক। আমরা ভাগ্যবান এই রকম একজন সজ্জন প্রার্থীর জন্য আমাদের কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আপনারা দয়া করে ঐক্যবদ্ধ থেকে তার জন্য কাজ করবেন।’

বিজয়ের মাস মার্চে মুজিববর্ষের সূচনা হবে। আর এমন একটি মাসেই চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনে প্রার্থিতা করছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই মাসে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান দেখানো। তার বিজয় নিশ্চিত করা। তার জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে কারও দ্বিধা থাকার কথা নয়।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, নানা কারণে যুবলীগের ইমেজ ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি যুবলীগকে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে তৈরি করতে।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল বলেন, জেলা যুবলীগের আওতাধীন ইউনিটের কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের অনুমতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে কমিটিতে যেন কোনো মাদক ব্যবসায়ী, খারাপ লোক না আসে। যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ী, খারাপ লোক কমিটিতে আসে তাহলে ওই কমিটির বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের জায়গা যুবলীগে নেই উল্লেখ করে বলেন, যারা ত্যাগী এবং দলের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছেন তারাই পদ-পদবী পাবেন। শৃঙ্খলাভঙ্গকারীরা অনুপ্রবেশকারি উল্লেখ করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলেন, অনুপ্রবেশকারি আছে ? এসময় নেতাকর্মীদের উত্তর ছিল ‘আছে’।
এছাড়া মুজিব বর্ষে বিভিন্ন জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কি কি কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে তাও জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

The Post Viewed By: 132 People

সম্পর্কিত পোস্ট