চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০

সুমনের সম্পদ বেশি, মামলা বেশি সরফরাজের

৩ মার্চ, ২০২০ | ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ হালিশহর

সুমনের সম্পদ বেশি, মামলা বেশি সরফরাজের

বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জিয়াউল হক সুমনের ধন-দৌলত বেশি। তার বার্ষিক আয় এক কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সুমনের নগদ রয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ২১০ টাকা। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সরফরাজ কাদেরের বছরে আয় তিন লাখ টাকা। তার নগদ রয়েছে দুই লাখ টাকা। তার মামলা রয়েছে ১৫টি। অধিকাংশ মামলাই বিশেষ ক্ষমতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এরমধ্যে ২০১৮ সালে দায়ের করা হয়েছে সাতটি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়।

জিয়াউল হক সুমন : মাছ চাষ থেকে বছরে আয় ৬ লাখ টাকা। গরুর খামার থেকে আয় এক কোটি টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ৭৮ হাজার টাকা। ব্যবসা বা ঠিকাদারি থেকে আয় এক লাখ ২৩ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সম্মানী ভাতা চার লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ২১০ টাকা। স্ত্রীর রয়েছে ৪১ হাজার টাকা। গাড়ি রয়েছে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর রয়েছে ৬০ হাজার টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ৪০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার। ইলেকট্রনিকসামগ্রী রয়েছে ৫০ হাজার টাকার। আসবাবপত্র রয়েছে ৪০ হাজার টাকার।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমি চার গ-া ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫শ টাকা, ২ গ-া ৩৪ লাখ ৩২ হাজার, ৫৫০ টাকা, তিন গ-া ১২ লাখ ৫১ হাজার ৬শ টাকা। ২ গ-া ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪শ টাকা। ৬ গ-া ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪শ টাকা। ৩ গ-া ৩ কড়ার দাম ১৭ লাখ ৫১ হাজার ২শ টাকা। ৩ গ-া ২ কড়া ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩শ টাকা। শূন্য দশমিক ৪৯৬ শতকের দাম ৬৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। দালান (আবাসিক বা বাণিজ্যিক) একটির দাম ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা, অন্য চারটির দাম এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬শ টাকার জমি। মৎস্য খামারে সুমনের মূলধন এক লাখ টাকা, গরুর খামারে ২০ লাখ টাকা, ব্যবসায় মূলধন ২৯ হাজার ৩৩৯ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যবসার মূলধন ৭ হাজার ৪শ টাকা।
সুমনের ব্যাংক ঋণ নেই। তবে আলমগীর ও আকবর হোসেন নামে দুই জনের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েছেন ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং চার লাখ ৮৬ হাজার ৫১৩ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। ২০১২ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা থাকলে সেটি চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ।
সরফরাজ কাদের :

তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৫টি। অধিকাংশ মামলাই বিশেষ ক্ষমতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এরমধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দায়ের হয়েছে সাতটি। বাকিগুলো ২০১৫ ও ২০১৬ সালে দায়ের করা হয়েছে। প্রতিটি মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন।
হলফনামায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সরফরাজের বছরে আয় তিন লাখ টাকা। নগদ টাকা রয়েছে দুই লাখ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্চ কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে তিন লাখ টাকার। পোস্টাল, সেভিংস বা সঞ্চয়পত্র বা আমানত রয়েছে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৪৯২ টাকা। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি রয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ৮ শতক অকৃষি নাল জমি রয়েছে। যার মূল্য দুই লাখ ৩০ হাজার ৩২ টাকা।
নিজের ছাড়া নির্ভরশীলদের নামেও ধন-সম্পদ নেই বলে হলফনামায় দাবি করেছেন তিনি। ধার-দেনাও নেই সরফরাজ খানের।

The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট