চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

খাগড়াছড়ি নানা সংকট দুই সরকারি বিদ্যালয়ে

২ মার্চ, ২০২০ | ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

মো. জহুরুল আলম, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি নানা সংকট দুই সরকারি বিদ্যালয়ে

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দু’টি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৩৩ জন। ইংরেজি, গণিত, ধর্মীয় শিক্ষক, আইসিটি ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞানসহ ১৯টি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। ১৯৭৭ সালে সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকেই দুই শিফটে চালু স্কুলটিতে শিক্ষক স্বল্পতা লেগেই আছে। বর্তমানে স্কুলটির দুই শিফটে মিলে ১২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেলের ভবন থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। জানা গেছে, হোস্টেল পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের স্টাফ না থাকায় তা চালু করা যাচ্ছে না। ক্লাস রুম সংকট, নেই কমন রুম। স্কুলের ভেতরে দীর্ঘ এক যুগ আগের নির্মাণাধীন মসজিদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শ্রীএলা তালুকদার জানান, জেলা প্রশাসন থেকে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও তা নানা কারণে আর গড়ে উঠেনি। তিনি আরো জানান, ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের জন্য পদ থাকলেও বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের শিক্ষকের জন্য কোনো পদ না থাকায় এইসব ধর্মের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশাল কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও কোনো আইসিটি শিক্ষক নেই বলে জানান তিনি। স্কুলটির ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৯৯ জন। এতে পাস করে ২৫৮ জন এবং জিপিএ-৫ পায় শুধুমাত্র ৪ জন। এমন ফলাফলের জন্য শিক্ষক শূন্যতাকে দায়ী করেছেন প্রধান শিক্ষক। একই অবস্থা বিরাজ করছে নারীশিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। এখানে ৪৩ জন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছে ২১ জন শিক্ষক। এতে এখানেও পাঠদান চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই। ইংরেজি, গণিত, চারুকলায় ও জীববিজ্ঞানের নেই কোন শিক্ষক। নেই কোন খেলার মাঠ। আবাসিক হোস্টেল থাকলেও নেই হোস্টেল পরিচালনার জন্য কোন কর্মচারী। ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ২৬০ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাস করেছে ১৫২ জন। প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমা জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অচিরেই এ ২টি স্কুলে শিক্ষক সংকটের সুরাহা না হলে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা।

The Post Viewed By: 57 People

সম্পর্কিত পোস্ট