চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

নতুন নাশকতার ছক নগরে!
নতুন নাশকতার ছক নগরে!

২ মার্চ, ২০২০ | ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

নতুন নাশকতার ছক নগরে!

গত চারবছরে পুলিশের টানা অভিযানে নব্য জেএমবির বেশিরভাগ সদস্য হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো কারাগারে বন্দী আছেন। তবে কয়েকজন জঙ্গির অবস্থান এবং তাদের কাজকর্ম নিয়ে পুলিশ কখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদেরও হালনাগাদ তথ্য নেই নগর পুলিশের কাছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের অভিযানের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে তারা নতুন করে হামলা ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জঙ্গিদের মধ্যে মোস্ট ওয়ান্টেড একজন হারুনুর রশিদ ওরফে রুবেল ওরফে সৌরভ। ধারণা করা হয়, তিনি ২০১৬ সালের এপ্রিলে বগুড়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান ফারদিনের সমকক্ষ একজন কমান্ডার। এর বাইরে তসলিম নামের আরো একজন জঙ্গি শুরু থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। গত শুক্রবার রাতে নগরীর নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে এই জঙ্গিদের নাশকতার শঙ্কা আলোচনায় আসছে।

এদিকে গতকাল রবিবার বিকেলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে নগর পুলিশ। নগর পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নগরীর যেসব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি) নেই সেইসব স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর তাগিদ দিয়েছেন নগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান। উল্লেখ্য নগরীর বিভিন্নস্থানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের যে স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তার আশপাশে কোথাও সিসি ক্যামেরা নেই। ধারণা করা হচ্ছে নাশকতাকারীরা এ সুযোগটিও কাজে লাগিয়েছে। কাউন্টার টেররিজম চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চলের উপ-কমিশনার শওকত আলী বলেন, আমরা আজ (রবিবার) মামলা তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছি। শুরুতেই জঙ্গির বিষয়টি আমরা সেভাবে দেখছি না। তবে তদন্ত যখন করবো, সবকিছুইতো মাথায় থাকছে।

জানা যায়, হারুনুর রশিদ রুবেলের বাড়ি মিরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড় গ্রামে। চট্টগ্রামে জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তারের শুরুতে ২০১৫ সালে সোনাহাড় গ্রামেই তারা আস্তানা গাড়ে। এর কারণও তারা পরে পুলিশকে বলেছিলেন। জঙ্গিদের ভাষ্যমতে, মিরসরাই থেকে দ্রুত চট্টগ্রামে আসা যায়, আবার রামগড় হয়ে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়া যায়। পাহাড়ের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সীমান্ত অঞ্চল থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তারা ঢাকার আবদুল্লাহপুরে জঙ্গি রাজীব গান্ধীর কাছে সরবরাহ করতো। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর রাজীব গান্ধী ধরা পড়ে। রুবেলদের হাত ধরে মূলত মিরসরাই সোনাপাহাড় থেকে চট্টগ্রামে জঙ্গি কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ এলাকার চন্দ্রনগর পাহাড়ে এই রুবেলই জঙ্গিদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। রুবেলের পাশাপাশি তসলিম নামের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরো এক জঙ্গি ধরা পড়েনি।

বর্তমানে বায়েজিদ এলাকায় ল্যাংটা ফকিরকে খুনের ঘটনায় জঙ্গি সচিব ওরফে বাবু জেলে আছেন। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নগরীর মাঝিরঘাটে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার মাহবুব ও তার ভাই রফিক জেলে আছেন। ওই ঘটনায় তাদের অপর ভাই রবিউল নিহত হন। এর বাইরে জঙ্গি এরশাদ, ফুয়াদ, নোয়াখালীর নুরুন্নবী ওরফে রাজু, জাবেদ ইকবাল, শামীম হোসেন গালিব, মাসুম বিল্লাহ, মিনহাজুল ইসলাম সাজিল, ফয়সাল মাহমুদ ও নাইমুর রহমান নয়ন জেলে আছেন।
নব্য জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন ২০১৬ সালের এপ্রিলে বগুড়ায় বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে নিহত হন। ফারদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ আকবর শাহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এরশাদ হোসেন মামুন বলেছিলেন, মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহের জন্যই চট্টগ্রামকে ব্যবহার করা হতো। এই নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন ফারদিন। এরশাদ নিজেও একবার ফারদিনের সঙ্গে বান্দরবান গিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসেন। ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকায় ফারদিনের বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করে স্নাইপার রাইফেল, গুলি, বিস্ফোরক ও সামরিক বাহিনীর পোশাক। কিন্তু পালিয়ে যান ফারদিন।

এর বাইরে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙ্গা শিল্পের কাঁচামালও বোমা বানানোর কাজে ব্যবহার করতে চট্টগ্রামে আস্তানা গাড়েন জঙ্গিরা। পরে সীতাকুণ্ডের একটি বাড়িতেই বোমা তৈরির সরঞ্জামের মজুদ ঘটায়। ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ ওই আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে শিশুসহ ৫ জন নিহত হন। উদ্ধার করা হয় ২০ জনকে। আর ব্যাপক বিস্ফোরণের পরও পাওয়া যায় ১৫টি বোমা। জঙ্গিরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর জঙ্গিরা চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর কলোনির দুইটি মসজিদেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাখাওয়াত ওরফে মাহফুজ পালিয়ে যান। আরেক জঙ্গি মোশাররফ হোসেন ওরফে সোহেল রানা জঙ্গিদের সংগঠিত করেছিলেন বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি রাবার বাগানে-শ্রমিক সেজে। পরবর্তীতে নোয়াখালী থেকে ধরা পড়া জঙ্গি ইলিয়াস পুলিশকে জানিয়েছিলেন, সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন এই দুইজন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 412 People

সম্পর্কিত পোস্ট