চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

এ দেশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজির আমরা দেখিয়েছি

২ মার্চ, ২০২০ | ২:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ সাতকানিয়া

সাতকানিয়ায় ইসলামী মহাসম্মেলনে আল্লামা আহমদ শফি

এ দেশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজির আমরা দেখিয়েছি

হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি (দা.বা) বলেন, আলেম সমাজ নবীদের উত্তরসূরী। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জাতিকে নির্দেশনা দেয়া তাঁদের কর্তব্য। শাসক ও জনগণকে নসিহত করা তাদের জিম্মাদারি। কল্যাণের প্রতি আহ্বান জানানো ও অকল্যাণ প্রতিরোধ করতে আলেমদের স্বয়ং আল্লাহ ও মহানবী (স.) নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কোনো অবস্থাতেই আলেম সমাজের পক্ষে এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি গতকাল (রবিবার) বিকেলে সাতকানিয়া মাদার্শা বাবুনগর মাদ্রাসা ইয়াছিন মক্কী আল্ কাছেমিয়াহ হেফজখানা এতিমখানা ও আল্লামা নুরুল হুদা স্মৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। আল্লামা আহমদ শফী বলেন, মানুষের ঈমান-আকিদার হেফাজত করা, মানুষকে পরকালমুখী করা, প্রচলিত শিরক-বিদআত ও কুসংস্কারসমূহ রদ করা এবং শরিয়তবিরোধী সব কর্মকা- প্রতিরোধে ভূমিকা পালনের শিক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেম এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয় হয় মাদ্রাসা সমূহে; শিক্ষা দেয়া হয় উগ্রবাদ ও ইসলাম বিরোধী সব চরমপন্থার বিরুদ্ধে। ওলামায়ে কেরামদের প্রচেষ্টার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম

দেশ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল সম্প্রদায়ের লোকেরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। ইসলাম সবসময় মানবাধিকার, শান্তি, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলে, অমুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তাদানের কথা বলে এবং বাংলাদেশের মুসলমানগণ বারবার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
আল্লামা আহমদ শফী বলেন, এ দেশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজির আমরা দেখিয়েছি। অথচ ভারতে এর উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। দিল্লিতে মুসলমানদের উপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতন পরিষ্কার রাষ্ট্রীয় নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

মহাসম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাংসদ প্রফেসর আল্লামা ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ধর্ম। জোর জবরদস্তি, নৃশংসতা ও নিরাপরাধ মানুষ হত্যা শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনো স্বীকৃতি দেয়না।
মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আল জামেয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া’র মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আব্দুল হালিম বোখারী। প্রধান ওয়ায়েজ ছিলেন আল্লামা হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী কুয়াকাটা।

বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা হাবিবুল্লাহ, আল্লামা মুফতি গোলাম কাদের, আল্লামা সরওয়ার কামাল আজিজি, মাওলানা আব্দুল মোবিন, মাওলানা আমির আহমদ। তাকরির পেশ করেন, জামেয়া জিরি পটিয়া’র মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব, আল্লামা ড. আ.ফ.ম খালেদ হোসাইন, আল্লামা মুফতি ফয়েজুল্লাহ, মাওলানা ওবাইদুল্লাহ হামযা, আল্লামা আব্দুর রহিম আল মাদানী, আল্লামা আলতাফ হোসেন, আল্লামা আশরাফ আলী গাজী, মাওলানা মহিউদ্দিন হেলালী প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি

The Post Viewed By: 60 People

সম্পর্কিত পোস্ট