চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘মেগা প্রকল্পে কমেছে ১৪ হাজার একর লবণ চাষের জমি’

১ মার্চ, ২০২০ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সংবাদদাতা

কক্সবাজারে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

‘মেগা প্রকল্পে কমেছে ১৪ হাজার একর লবণ চাষের জমি’

দেশের সিংহভাগ লবণ কক্সবাজার থেকে সরবরাহ করা হয়। এই শিল্প নিয়ে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্র থেকে উত্তরণ ও ষড়যন্ত্রকারিদের মুখোশ উম্মোচন করতে হবে। এই শিল্পটিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে কক্সবাজার জেলা বিএনপি। লবণ উৎপাদন ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ সকল অভিযোগ আনা হয়।

আজ রবিবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি লবণ শিল্প বাঁচাতে তিনটি করণীয়ের কথা উল্লেখ করেন।

এর মধ্যে প্রথমে বলা হয়, চাহিদা মোতাবেক শিল্প লবণ আমদানি হোক। কিন্তু চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত শিল্প লবণ আমদানি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত উল্লেখ করা হয়, যে সব কোম্পানি শিল্প লবণ আমদানি করে তারা যেন প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য লবণ বাজারজাত করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সবশেষে সরকারি উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য প্রতিকেজি ১৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে, নয়তো চাষীদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য প্রতিকেজি ১৫ টাকা দামে সরাসরি লবণ কিনতে হবে হবে উল্লেখ করা হয়। বিএনপি নেতারা আক্ষেপ করে বলেন, একদিকে মাঠে পড়ে আছে লাখ লাখ মেট্রিক টন লবণ, অন্যদিকে শিল্প লবণের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে সেই লবণকে খাদ্য লবণে প্রক্রিয়াজাত করছে আমদানিকারক নামধারি কতিপয় রক্তচোষা! আর মাথার ঘাম পায়ে যে সকল চাষীরা মাঠে লবণ উৎপাদন করছেন সেই সকল চাষীরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। যেহেতু তারা ঋণ কিংবা দাদন নিয়ে মাঠে নেমেছিল, সেহেতু সেই ঋণ শোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যারাও মাঠে আছে তারাও যে কোন সময় মাঠ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় আছে। কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলাতেই মূলত দেশের চাহিদার সব লবণ উৎপাদিত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং আনোয়ারা উপজেলায় মাত্র ৫০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণ চাষ হচ্ছে। এসব এলাকা ছাড়াও কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ইসলামপুর ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৩৪ একর জমিতে পলিথিন ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে লবণের চাষ করা হচ্ছে। দেশে প্রায় ৬২ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। বিগত ২/৩ বছরে সরকারের মেগাপ্রকল্পের কার্যক্রমের কারণে জমি অধিগ্রহণ করে নেয়ায় প্রায় ১৪ হাজার একর লবণ চাষের জমি কমে গেছে, যেখানে এখন আর চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে সরকারের মেগাপ্রকল্পের কারণে গেছে ১৪ হাজার একর, অন্যদিকে চাষীরা লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষাবাদ থেকে বাদ পড়েছে আরও ১২ হাজার একর জমি। এত সংকটের পরও দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ লবণ চাষের সাথে জড়িয়ে আছেন।  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ চাষের সাথে অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে আছেন। যাদের অধিকাংশই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা।

লবণ শিল্প বাঁচাতে সরকারের কাছে দাবি তুলে বিএনপি নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত শিল্প লবণ আমদানি বন্ধ করে দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষা এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করুন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ; জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন; জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মাবুদ, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য এম. মোক্তার আহমদ, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমীর আলী, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শফিউল আলম, জেলা বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক রাসেল রহমান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সরওয়ার রোমন, সাবেক ছাত্রনেতা আবছার কামাল ও মহেশখালী বিএনপি নেতা আকতার হোসাইন।

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 154 People

সম্পর্কিত পোস্ট