চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

বিদ্রোহী বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসছে

১ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্রোহী বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসছে

চসিক নির্বাচন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে নগর আ. লীগের বৈঠক ৫ মার্চ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনবঞ্চিত হয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসছে। এসব প্রার্থীদের আগাম সতর্ক করতে আগামী ৫ মার্চ তাদের নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে নগর আওয়ামী লীগ। ওই সভায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি উপস্থিত থাকবেন। এদিকে, বহিষ্কারের খড়গ কাঁধে নিয়েও কেউ কেউ কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে, কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ওই সভা থেকে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর বার্তা আসবে। দলের সিদ্ধান্ত না মানলে বহিষ্কার করা হতে পারে। কোন প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে ওই প্রার্থী কার অনুসারী হিসেবে পরিচিত তার উপরও চাপ প্রয়োগের কৌশল নিতে পারে ক্ষমতাসীন দলটি।
আওয়ামী লীগের সমর্থনবঞ্চিত হয়ে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩ জন বর্তমান কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫ জন বর্তমান কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে কেউ কেউ ইতিমধ্যে পিছু হটেছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়। তাদের বক্তব্য হল, অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কারো রাজনৈতিক বয়স ছয় মাস। আবার কোন প্রার্থীর নির্বাচন করার বয়সও হয়নি। আবার ধর্ষণের মত ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ উঠা ব্যক্তিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তাহলে কিসের বিবেচনায় এসব প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হল, এমন প্রশ্ন তুলছেন তারা।

ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব পূর্বকোণকে বলেন, ‘যদি সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে ডাকা হয়। অবশ্যই সেখানে গিয়ে নিজের কথা বলব। কিসের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দেয়া হল, গত পাঁচ বছরে আমি এত কাজ করেছি। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সেসব বিবেচনায় আনা হয়েছে কিনা। কিংবা আমার বিরুদ্ধে কোন ধরনের সন্ত্রাসী বা জমি দখলের অভিযোগ আছে কিনা। এসব জানার অধিকার আমার আছে।’
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসি জানান, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যদি তাদের ডাকা হয়, তার জন্য ভাল হবে। তিনি নিজের কথা বলতে পারবেন এবং বলবেন। তিনি আশা করছেন দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এখনো তিনিই মনোনয়ন পাবেন।
এমইএস কলেজ ছাত্রলীগর একাংশের সভাপতি মোহাম্মদ মহসীন পূর্বকোণকে বলেন, তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে তৃণমূলের রাজনীতি করে আসছেন। এবারের নির্বাচনে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন দল তৃণমূলের নেতাদের মূল্যায়ন করবে। তিনি এবারো বঞ্চিত হয়েছেন। তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৫ মার্চ দলীয় আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে যাবেন এবং নিজের কথা বলবেন উল্লেখ করে বলেন, তার প্রত্যাশা দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় এখনো আছে। মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার শতভাগ আত্মবিশ^াস তার আছে।
নগর যুবলীগের সদস্য নেছার আহমদ পূর্বকোণকে বলেন, তিনি ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লাহ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সংগঠন যেহেতু তাকে মনোনয়ন দেয়নি, তাই তিনি দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান তারেক পূর্বকোণকে বলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি আর নির্বাচন করছেন না। দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই তিনি কাজ করবেন।
গত শুক্রবার নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিদ্রোহীদের নিয়ে বসার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ১ মার্চ। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মার্চ। ৯ মার্চ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 90 People

সম্পর্কিত পোস্ট