চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সংবাদ সম্মেলনে আইনগত ব্যবস্থা দাবি সীতাকু-ে আদম পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত তিন যুবক

১ মার্চ, ২০২০ | ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ সীতাকু-

সংবাদ সম্মেলনে আইনগত ব্যবস্থা দাবি সীতাকু-ে আদম পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত তিন যুবক

সীতাকু-ে একটি আদম পাচারকারী চক্রের পাল্লায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছে দরিদ্র পরিবারের তিন যুবক। শুধু তাই নয়, দেশে ফিরে ঐ যুবকরা যেন কোন আইনগত ব্যবস্থা নিতে না পারে সেজন্য আদম পাচারকারীরাই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে যুবকদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় সীতাকু- প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন যুবকরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার সৈয়দপুর

ইউনিয়নের পশ্চিম বাকখালী গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে মো. কামরুল হাসান। তিনি ও একই গ্রামের নুরুল আবচারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে কাতারে ৫০ হাজার টাকা বেতনের কাজের ভিসা দেবার লোভ দেখিয়ে জনপ্রতি ৬লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একই ইউনিয়নের বাকখালী গ্রামের মৃত মিজানুল হকের ছেলে আদম পাচারকারী শফিকুল ইসলাম আনু, পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের আবুল কাশেম ও তার ছেলে নুর নবী। তারা বিদেশে বসে ভিসার আশ^াস দেবার পর দেশে তাদের হয়ে দেশে টাকা গ্রহণ করেন আনুর স্ত্রী রোকসানা, নুর নবীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার এবং বাকখালী গ্রামের নুরের ছাপা ও মো. ইউসুফ। এদিকে টাকা প্রদানের শেষে কামরুল হাসান, জয়নাল আবেদীন ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে কাতারে নিয়ে গেলেও সেখানে একটি অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ভিসা প্রদান করা হয়। ফলে তারা চরম বিপাকে পড়ে যান। এসময় এসবের কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে একটি কক্ষে আটক করে রেখে নির্যাতন শুরু করে। বাধ্য হয়ে তারা কাতারে অবস্থানকারী কয়েকজন বাংলাদেশি আজম খান, ইউসুফ আলী, সোহরাব হোসেন ও আনোয়ার হোসেনকে সব খুলে বললে তাদের মধ্যস্থতায় কাতারে একটি সালিশী বৈঠক হয়। এতে আদম পাচারকারী সফিকুল ইসলাম আনু একটি স্ট্যাম্প করে টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকার করে সেই মোতাবেক তিনি প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জনতা ব্যাংকের চেক প্রদান করে। কিন্তু চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় একাউন্টটি বন্ধ। এসবের পর চাকুরির আশা ত্যাগ করে তারা ১৯ জানুয়ারি দেশে ফেরেন হতভাগ্য তিন যুবক। কিন্তু তাদেরকে দেশে ফিরতে দেখেই আদম ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম আনুর স্ত্রী রোকসানা বাদি হয়ে মিথ্যা বানোয়াট গল্প সাজিয়ে উক্ত চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করে। এই মামলায় তিন যুবক এখন হয়রানিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা এসবের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। ভুক্তভোগিরা জানান, চক্রটি একই পন্থায় আরো অনেক যুবকের সর্বনাশ করেছিলো। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ফজলুল হক, ইকবাল হোসেন, সোহরাব হোসেন, নুর উদ্দিন ও ডাক্তার সজল শীল।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 84 People

সম্পর্কিত পোস্ট