চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

নিজ গ্রামে ছুটির দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কায়কাউস

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ পটিয়া

‘পটিয়ার উন্নয়নে সুযোগ হলে সহযোগিতা করে যাব’

নিজ গ্রামে ছুটির দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কায়কাউস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, পটিয়ার উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের নয়, জনপ্রতিনিধিদের। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করি। যদি সুযোগ হয়, তাহলে পটিয়ার উন্নয়নে সহযোগিতা করে যাব। একসময় পটিয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়া ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সরকারি কর্মকর্তারা অবহেলার শিকার হয়েছিল। দেখা যেত দিন শেষে কিভাবে চট্টগ্রাম শহরে চলে যাবে এ চিন্তায় থাকতে হতো সরকারি কর্মকর্তাদের। সরকারি কর্মকর্তাদের পটিয়ার প্রতি সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশের তুলনায় পটিয়া একটি পুরনো শিক্ষিত অঞ্চল। এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে গেলে শিক্ষার উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। পটিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন দুর্বল। এ ব্যাপারে পটিয়ার জনপ্রতিনিধিরাই কাজ করবেন। এক্ষেত্রে তিনি সর্বাত্বক সহযোগিতা করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন। গিতকাল (শুক্রবার) বিকেলে পটিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ সহজে বড় লোক হতে চায়। তার জন্য এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হলে দেশের বিপথগামী মানুষ কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হবে। পটিয়া পৌরসভাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে টাউন প্ল্যানের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে আবাদযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পড়াশোনা শেষ করে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি। এর পেছনে অবদান হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর এ স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে অবদান হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের চেহারা পরিবর্তন করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পটিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইনামুল হাসান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তিমির বরণ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাবেদ প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তার আগে তিনি সকাল দশটা থেকে পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভার এয়াকুবদ-ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল্লাই ওষাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এ এস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ আমির উচ্চ বিদ্যালয় ও সুচক্রদ-ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬টি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও পটিয়া প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে দুপুরে মুখ্যসচিব তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি পটিয়া পৌরসভার সুচক্রদ-ী গ্রামে জুমার নামাজ আদায় শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জেয়ারত করেন।
পরে পটিয়া উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক আয়ুব বাবুল স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি তাঁকে প্রদান করা হয়। এতে পটিয়া মহকুমাকে জেলা ঘোষণা, পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ভবন নির্মাণ, পটিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ডাবল শিপ্ট চালু, পটিয়া কলেজে সম্পূর্ণ বিষয়ে অনার্স কোর্স ও মাস্টার্স কোর্চ চালু এবং পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এ এস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়কে যৌথভাবে সরকারিকরণ এবং পটিয়ার জরাজীর্ণ জিমনেশিয়া আধুনিকায়ন, পটিয়ার শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধে দুই পাশে ব্লক স্থাপন, অনাবাদি জমিগুলোকে চাষের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, তিনি পটিয়া পৌর সদরের আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে স্কুল মাঠে হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠানে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে দেখে ক্ষুব্ধ হন। এসময় তিনি উপস্থিত থাকা পটিয়ার পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ঈসমাইলকে ভৎসনা করেন। তিনি পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেন, দেশে ২৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার পরও দিনদুপুরে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে অনুষ্ঠান করলে আমরা সাধারণ মানুষ আর কী উপকৃত হচ্ছি। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ড. আহমদ কায়কাউস ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে যোগদান করার পর এ প্রথম নিজ গ্রামের উপজেলা পটিয়ায় সরকারি সফর করেন। তিনি পুঁথি গবেষক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের বংশধর।

The Post Viewed By: 120 People

সম্পর্কিত পোস্ট