চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ব্যাটারিচালিত যানের জন্য প্রথমবার বিদ্যুতের আলাদা দাম নির্ধারণ

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

ব্যাটারিচালিত যানের জন্য প্রথমবার বিদ্যুতের আলাদা দাম নির্ধারণ

দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পিক ও অফ পিক সময়ের ওপর নির্ভর করে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম সাত টাকা ৬৪ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯ টাকা ৫৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যালয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আদেশের কথা জানানো হয়। এ আদেশ আগামী ১ মার্চ থেকে কার্যকর করা হবে। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল, সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, সদস্য রহমান মুরশেদ, মোহম্মদ আবু ফারুক ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আদেশে বলা হয়, চার্জিং এর ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম অফপিক সময়ের জন্য ৬ টাকা ৮৮ পয়সা, সুপার অফপিক সময়ের জন্য ৬ টাকা ১১ পয়সা, পিক সময়ের জন্য ৯ টাকা ৫৫ পয়সা এবং ফ্ল্যাট রেটে ৭ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত: বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়কে পিক আওয়ার, এরপর রাত ১১ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অফপিক, সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সুপার অফপিক এবং আবার ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অফপিক আওয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর বিদ্যুতের দামের ওপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণের সুপারিশ করে কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি। মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে সুপারিশ উপস্থাপন করেন কমিশনের উপ-পরিচালক (ট্যারিফ) মো. কামরুজ্জামান।
সুপারিশে বলা হয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা বা থ্রি হুইলার যানবাহনে যাতায়াত করে। এটি খুব জনপ্রিয়ও। ২০১৭ সালের নভেম্বরে খুচরা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের সময় রাস্তার বাতি, পানির পাম্প ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য একটি আলাদা ধাপ নির্ধারণ করা হয়। ফলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে দামের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমেছে। এই অবস্থায় শুধু ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য এলটি-ডি ৩ নামে নতুন ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা সমীচীন হবে। ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক যানবাহন দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে। ফলে স্বল্প সময়ে চার্জিংয়ের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিং স্টেশনে ১১ কেভিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে এমটি-৭ নামে ১১ কেভিতে যানবাহনের ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য একটি নতুন ক্যাটাগরি সৃষ্টি করা প্রয়োজন। মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই আলাদা দামের ক্যাটাগরি সৃষ্টি করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, দেশে ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংখ্যা এখন ছয় লাখেরও বেশি। এছাড়াও প্রচুর রিকশা ও ভ্যানে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 62 People

সম্পর্কিত পোস্ট