চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে পারদর্শী শিক্ষকের অভাবে

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দীঘিনালা

ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে পারদর্শী শিক্ষকের অভাবে

নিজস্ব ভাষার শিক্ষকের অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে দীঘিনালার ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম।

সরকার ২০১৭ সাল থেকে ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের স্বীকৃতি দিলেও অদ্যাবধি এ বিষয়ে পারদর্শী কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। এদিকে উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তারাও মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়ে পারদর্শী নয়। ফলে মায়ের ভাষা শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে এই উপজেলার ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা। এদিকে ২০১৭ সালে স্বীকৃতি পাওয়ার পর উপজেলার ১২০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭ টি বিদ্যালয়ে চাকমা সাহিত্য বাহ নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে শুধুমাত্র চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ সংগঠনের কার্যক্রমও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, অন্যবিষয়ে রুটিন মাফিক পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়টি অদ্যাবধি রুটিনভুক্তও করা হয়নি। একমাত্র পারদর্শী শিক্ষক না থাকার কারণেই বিষয়টি রুটিনভুক্ত করা হয়নি বলে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। শুরুতে প্রাকÑপ্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের স্বীকৃতি দেয়া হয়। চলতি বছর থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও মাতৃভাষায় পাঠদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামনা ত্রিপুরা জানান, উক্ত বিষয়ে পারদর্শী শিক্ষক না থাকায় ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়টি রুটিনভুক্ত করা হয়নি। উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষক থাকলেও তারাও মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়ে পারদর্শী নন। এ বিষয়ে চাকমা সাহিত্য বাহ সভাপতি ইনজেব চাকমা জানান, শুরুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭টি বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র চাকমা বর্ণমালায় স্বেচ্ছাশ্রমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করি। এ কার্যক্রমের আওতায় চাকমা বর্ণমালায় পারদর্শী সংগঠনের ১৪১ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে সংগঠনের জনবল কমে আসায় আমরা উপজেলার ২৫টি বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন জানান, পারদর্শী শিক্ষকের অভাবে ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য পারদর্শী হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 97 People

সম্পর্কিত পোস্ট