চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তদের বৈশিষ্ট্য
পবিত্র আশুরার ফজিলতপূর্ণ রোজা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সাদ হাবিবুল্লাহ

আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তদের বৈশিষ্ট্য

আল্লাহর রহমত ও সাহায্য ছাড়া বান্দা চলতে পারে না। কারও সঙ্গে আল্লাহর রহমত থাকলে অন্য কেউ তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রেখ! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (তিরমিজি : ২৫১৬)। এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের আল্লাহর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভে উৎসাহিত করেছেন। যেন তারা ঈমান, ইখলাস, ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা, সান্নিধ্য ও রহমতের দৃষ্টি লাভে সক্ষম হয়। পার্থিব জীবনে তারা কখনও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত না হয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা রাখে আমি তার সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করি। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’ (বুখারি : ৭৪০৫; মুসলিম : ২৬৭৫)। হাদিসে আল্লাহ তায়ালার বক্তব্য, ‘আমি বান্দার সঙ্গে থাকি’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রহমত সে বান্দার সঙ্গে থাকা। বান্দা আল্লাহর প্রতি যেমন ধারণা রাখবে সে অনুযায়ী রহমত ও বরকত লাভ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা যেসব বান্দার সঙ্গে থাকেন, তা হলো

আল্লাহভীরু ও দয়াশীল : আল্লাহ মুত্তাকি ও দয়াশীল মানুষের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা আল্লাহভীরু ও অনুগ্রহকারী।’ (সুরা নাহল : ১২৮)

আল্লাহর পথে আহ্বানকারী : যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লাহর দুই নবী মুসা ও হারুনকে (আ.) ফেরাউনের কাছে দ্বীনি দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা ভয় পেয় না, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; আমি শুনি ও দেখি।’ (সুরা তাহা : ৪৬)
বিপদগ্রস্ত মুমিন : যখন কোনো মুমিন বিপদগ্রস্ত হয় এবং তারা আল্লাহর সাহায্য কামনা করে আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে থাকেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল, মুসার অনুসারীরা বলল, নিশ্চয় আমরা ধরা পড়ে যাব। মুসা (আ.) বললেন, কখনই না। নিশ্চয় আমার প্রভু আমার সঙ্গে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’ (সুরা শুরা : ৬২)

আল্লাহর পথে হিজরতকারী : আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করছিলেন, তখন আবু বকর (রা.) শত্রুর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তারা গুহায় ছিল, তখন সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, বিষণ্ন হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা তাওবা : ৪০)

ধৈর্যশীল ব্যক্তি : যারা দ্বীনের ওপর চলতে গিয়ে বিপদের শিকার হয় এবং ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : ১৫৩)

অন্তরে আল্লাহর ভয়কারী : আল্লাহকে সঙ্গে পেতে হলে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করতে হবে। জীবনের সর্বত্র তার বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করতে এবং তার সৃষ্টির সঙ্গে বিনম্র আচরণ করতে হবে। হজরত কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার সঙ্গী হবেন। আর আল্লাহ যার সঙ্গী হবেন, তার সঙ্গী এমন একটি দল হবে (অর্থাৎ ফেরেশতারা) যাদেরকে পরাজিত করা যায় না, এমন পাহারাদার হবেন যিনি ঘুমান না এবং এমন পথপ্রদর্শক হবেন যিনি কখনও পথভ্রষ্ট হন না।’ (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ২০/১৪)

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 390 People

সম্পর্কিত পোস্ট