চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

চবিতে বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

চবি সংবাদদাতা

চবিতে বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় শহিদ মিনারের সামনে সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর একটি স্বারকলিপিও প্রদান করেন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জহির সব্যসাচী, নাট্যকলা বিভাগের মুসফিক উদ্দীন, দর্শন বিভাগের জোবায়ের, রিটু রায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের বন-পাহাড় উজাড় করে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। বৃক্ষ নিধন করে প্রকৃতির উপর নির্মম প্রতিশোধ কখনোই মেনে নেয়া যায় না। প্রকৃতির পরম বন্ধু বৃক্ষ নিধন কখনোই সচেতন মানুষ মেনে নিতে পারে না। যারাই এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়ের পাহাড় ও গাছ যেমন করে এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষা করে ঠিক তেমনভাবে এখানকার ভৌগোলিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই ক্যাম্পাসে বসবাস করে শত শত বন্যপ্রাণী ও পশু-পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে যেমন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে ঠিক তেমনি কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী ও পশু পাখি। তাছাড়া গাছ পরিবহনের জন্য কাটা হচ্ছে পাহাড়। এভাবে পাহাড় কটতে থাকলে একদিন এই ক্যাম্পাস সমতল হয়ে যাবে। আর হারাবে তার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।

তারা বলেন, বিগত ৩-৪ বছর ধরে যে হারে গাছ কাটা হলে দেখা যাবে আগামী ৫০ বছর পর এই ক্যাম্পাসের সব গাছ বিলীন হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৭ শতাংশ বনাঞ্চল রয়েছে। তার বেশির ভাগ চট্টগ্রামেই। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে যদি বৃক্ষনিধন বন্ধ না হয় তাহলে আগামী ১০ বছর পর শ্বাস নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়াবে।

তারা বলেন, বন খেকোদের গাছ কাটতে কোন দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। কিন্তু আমরা গত ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বিবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করতে লেগেছে প্রশাসনের অনুমতি। তাও আবার অনেক বার যাওয়ার পর। এসময় তারা বিশ্বিবিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে গাছ কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আর যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে কঠোর কর্মসূচী হুঁশিয়ারী ও দেন তারা।

জীববৈচিত্র রক্ষায় ৭ দফা দাবীগুলো হলো: সৌন্দর্য বর্ধন, রাস্তা সম্প্রসারণ ইত্যাদি অজুহাতে ক্যাম্পাস সীমানার কোনো স্থানে প্রশাসন বা অন্য যে কারো উদ্যোগে কোনো গাছ কাটা যাবে না, গাছ কেটে ক্যাম্পাসে রাখার ও ক্যাম্পাসের উপর দিয়ে গাছ পরিবহণের অনুমতি দেয়া যাবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, গাছকাটা প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে আরেকটি কমিটি করতে হবে এবং তা কার্যকর রাখতে হবে, ক্যাম্পাস সীমানার বাইরের বন-পাহাড়ে গাছাকাটা প্রতিরোধ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, আগামী এক বছরের মধ্যে ক্যাম্পাসের সমস্ত বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের তালিকা করতে হবে। তাদের সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে, মাটি, পানি, বাতাস তথা বনজ এলাকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় কাঠের উদ্দেশ্যে কিংবা বিভিন্ন ধরনের বিদেশি সংস্থার ফান্ডিংয়ে ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি, মেহগনিসহ কোনো প্রকারের বিদেশি প্রজাতির বনায়ন করা যাবে না ও অবৈধভাবে গাছকাটা ও তা পরিবহণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে।

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 150 People

সম্পর্কিত পোস্ট