চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শিব দর্শন ও পূজা শেষে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

সৌমিত্র চক্রবর্তী হ সীতাকু-

সীতাকু-ে বোম ভোলা ধ্বনিতে মুখর চন্দ্রনাথ ধাম

শিব দর্শন ও পূজা শেষে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা

সীতাকু- চন্দ্রনাথ ধামে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত শিব চতুর্দশী মেলা শেষ হয়েছে। গতকাল (শনিবার) এ মেলা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক সমাপনি হয়। এদিকে এবারের মেলায় রেকর্ড ২০ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। ভক্তরা মহাতীর্থ চন্দ্রনাথে এসে দেবাধিদেব মহাদেবের জপ-স্তব-পূজা অর্চনা শেষে নিরাপদে ফিরে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলিযুগের মহাতীর্থ খ্যাত সীতাকু- চন্দ্রনাথ ধামে সাড়ে ৩’শ বছর ধরে শিব চতুর্দশীর পূণ্য তিথিকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী সুবিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। এসময় ভক্তরা মঠ-মন্দির দর্শন পূর্বক দেবাধিদেব মহাদেবকে ভৈরব, শম্ভুনাথ, চন্দ্রনাথ নানারুপে পূজা করে তার কৃপালাভ করেন। তীর্থ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য বলেন, তিন দিনের মেলা হলেও শিব চতুর্দশী তিথি শুরু হলে রাতে কোথাও তিল ঠাঁই ছিলো না। বিশেষত ভৈরব মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির ও চন্দ্রনাথে রীতিমত ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি করে প্রবেশ করেছেন দর্শনার্থীরা। গতকাল মেলার শেষদিনে মহাতীর্থ পরিদর্শনকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে আসা মধ্যবয়সী গৃহবধূ রাণী বালা জানান, তিনি নিজ পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে ২২ জনের একটি দল একসাথে এই মহাতীর্থে এসেছেন। প্রচুর ভিড় থাকলেও তারা সবাই ব্যাসকু-ে পুণ্য¯œান শেষে ভৈরব মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দিরে পূজা-অর্চনা করেছেন। একইভাবে তীর্থ করতে পেরে তৃপ্তি নিয়ে ফিরে যান রংপুর স্টেশান রোড থেকে আসা অজয় ভৌমিক, স্ত্রী শ্রীমতি ভৌমিকসহ অগণিত

দর্শনার্থী। পরিদর্শনকালে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সাধু সন্নাসীকে মহাতীর্থে জপ-স্তব করতে দেখা গেছে। পুণ্যার্থীরা তীর্থ দর্শন শেষে এসব সাধু সন্নাসীকে চাউল, অর্থ, নানারকম সবজি ইত্যাদি দিয়েছেন তাদের আশীর্বাদ কামনায়। গতকাল মেলার শেষ দিনেও সারাদিন অগনিত ভক্তের ঢল ছিলো। তবে বিকাল থেকে ¯্রােতের মত ফিরে যান বেশিরভাগ পুণ্যার্থী। এসময় তাদের মুখের ‘বোম ভোলা নাথ, জয় শিব-শম্ভু’- ইত্যাদি ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে তীর্থ ভূমি। মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া তিন দিনের শিব চতুর্দশী মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই মেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ২০ লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। তীব্র ভিড়ে শতাধিক মানুষ অসুস্থ ও কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। একজন পকেটমারকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, মেলাটি সুষ্ঠু করতে মেলা কমিটি, তীর্থ কমিটি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আবার গতকাল মেলার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও তীর্থযাত্রীদের অনেকে আরো কয়েকদিন এখানে অবস্থান করে পিতৃপুরুষের আতœার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পণ ইত্যাদি করবেন। একই স্থানে আগামী ৮-৯ মার্চ দোল পূর্ণিমা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই মেলার অনেক দোকানপাট দোলপূর্ণিমার মেলা পর্যন্তই থেকে যাবে।

মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় ও থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা অভিন্ন বক্তব্য রেখে বলেন, এই মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ থাকে। আমরা ভালোভাবে এটি শেষ করতে পেরেছি এটিই বড় কথা। পুণ্যার্থীরা সকলে আত্মতৃপ্তি নিয়ে তীর্থ করে ফিরে গেছেন।

এদিকে গতকাল (শনিবার) রাতে তীর্থের মোহন্ত আস্তানায় মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপনি অনুষ্ঠিত। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তীর্থ কমিটির সভাপতি এডভোকেট সাধনময় ভট্টাচার্য্য। মেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দুলাল চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তীর্থ কমিটির সম্পাদক এডভোকেট চন্দন দাশ। অতিথি ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী লক্ষী নারায়ণ কৃপানন্দ পুরী মহারাজ, শিল্পগ্রুপ এনজিএস’র পরিচালক অসিতবরণ সাহা, চসিকের প্রতিনিধি দিপক চক্রবর্তী, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর শফিউল আলম মুরাদ, তীর্থ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী, এডভোকেট অজিত নারায়ণ অধিকারী, মেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ চৌধুরী, তীর্থ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে তীর্থের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বিশিষ্ট দানবীর ¯্রাইন কমিটির সদস্য অনিল চন্দ্র পালকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 335 People

সম্পর্কিত পোস্ট