চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

আজ মেলায় আসছে একঝাঁক কথাসাহিত্যিক

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

অনুপম চৌধুরী

বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর বইমেলা

আজ মেলায় আসছে একঝাঁক কথাসাহিত্যিক

গত শুক্রবার ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য শোকের। বাংলা ভাষার জন্য যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন ছিল ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশে^র বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। ভাষা দিবসের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে তাই পথে নেমেছিল মানুষের ঢল। সকাল সকাল শহীদবেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর সবাই ভিড় করেছেন একুশের চেতনায় লালিত বইমেলায়। দুপুর গড়াতেই বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম চত্বরের অমর একুশে বইমেলা।

একুশে ফেব্রুয়ারি ও বন্ধের দিন উপলক্ষে সকালেই বইমেলার দরজা খোলা হয়। মেলায় সকাল থেকে রাত অবধি উপচে পড়া ভিড়

লক্ষ করা য়ায়। সন্ধ্যার সময় মেলায় ঢুকতেই লাইনও ধরতে হয়ে।

বইপ্রেমীদের সাজ-পোশাকে ছিল শোকের আবহ। প্রায় প্রত্যেকেই গায়ে জড়িয়েছিলেন সাদা-কালো রঙের পোশাক। তরুণরা পাঞ্জাবির সঙ্গে উত্তরীয় এবং নারীরা শাড়িতে সেজেছে আর মাথায় ফুলের টায়রা তো আছেই। পোশাকে বর্ণমালা, শহীদ মিনার কিংবা ভাস্কর্যের প্রতিচ্ছবি। কেউ কেউ মাথায় জড়িয়েছিলেন পতাকা। এছাড়া একুশের রঙে সেজেছে আবাল বৃদ্ধবণিতা।
শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও ভিড় ছিল তবে কিছুটা কম। বইবিক্রিও বেড়েছে বলে জানান আয়োজকরা। দশ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হলেও গত শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি বই বিক্রি ছিল সবোর্চ্চ।
বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় সব জেলা থেকে লেখক-প্রকাশক আসছেন। এরই মধ্যে সম্পন্ন হল লেখক সম্মিলন। আজ শনিবারও একঝাঁক কথাসাহিত্যিক বইমেলায় আসছেন। মূলত চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনের আমন্ত্রণে তারা আজ মেলায় থাকবেন। চলবে আড্ডা আর মিলবে প্রিয় লেখকদের অটোগ্রাফ সমেত বই। সাহিত্যিকদের মধ্যেÑ কাসাফাদ্দৌজা নোমান, আশান উজ জামান, হামিম কামাল, মাহবুব ময়ূখ রিশাদ, রাসেল রায়হান, নাহিদ ধ্রুব ও মদিনা জাহান রিমি।
ইতোমধ্যে গতকাল বইমেলায় উপস্থিত ছিলেন কাসাফাদ্দৌজা নোমান। তার প্রকাশিত বুপন্যাস ‘চরিত্রের প্রয়োজনে’। তিনি বইমেলা নিয়ে পূর্বকোণকে বলেনÑ ‘ভালো। বেশ সুন্দর, গুছানো। ছোটবেলায় দেখা ঢাকার বইমেলার মতো পরিপাটি। ধীরস্থির সবাই, পাতা ওল্টাচ্ছে, একটু পড়ছে, একটু কিনছে। চট্টগ্রাম বইমেলায় এবারই প্রথম। মানে অনেক আগে ডিসি হিলে যে মেলাটা বসতো ওটায় এসেছিলাম।’
বইমেলায় আসা নিয়ে কথাসাহিত্যিক আশান উজ জামান পূর্বকোণকে জানানÑ ‘বই আর বইয়ের মানুষের সঙ্গ আমার বিশেষ পছন্দের। চট্টগ্রামে আমার বহু পাঠক, ও শুভাকাক্সক্ষী আছেন; তাদের অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। পরিচিত অপরিচিত পাঠক ও লেখকের সঙ্গে আড্ডা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বইমেলায় আমার দুটো সমৃদ্ধ দিন কাটবে বলেই বিশ্বাস।’

কথাসাহিত্যিক মাহবুব ময়ূখ রিশাদ জানানÑ ‘চন্দ্রবিন্দুর আমন্ত্রণে নিজের জন্ম শহরে যাওয়ার সুযোগ হলো আবার। এবারের যাওয়াটা ভিন্ন রকম। যাচ্ছি বইমেলায়। আমি আনন্দিত। চন্দ্রবিন্দুর প্রতি ভালোবাসা জানাই।’
কবি ও কথাসাহিত্যিক রাসেল রায়হান পূর্বকোণকে জানানÑ ‘প্রথমত চন্দ্রবিন্দুকে ধন্যবাদ, লেখক-পাঠকের মধ্যে যোগাযোগ, অনুভূতি আদান প্রদানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামকে আমি পাঠকের নগরী বলি। চট্টগ্রাম বইমেলা দর্শনের এই সুযোগ অভূতপূর্ব। চন্দ্রবিন্দু এবং চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য ভালোবাসা।

চট্টগ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়ে চন্দ্রবিন্দু যে সম্মান আমাকে দিয়েছে তার জন্যে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।’
কথাসাহিত্যিক মদিনা জাহান রিমি বলেনÑ ‘কোনো এক বিচিত্র কারণে আমার স্কুল ফ্রেন্ডরা বাদে সবাই মনে করে চট্টগ্রাম আমার জন্মস্থান। আমার আম্মুকে জিজ্ঞেস করলেও দেখা যাবে সে আকাশের দিকে উদাস তাকিয়ে ভুলে বলে ফেলবে, আমার ১৪ গুষ্টি উত্তরবঙ্গের কিন্তু আমি চট্টগ্রামের। যাহোক, আমি এর আগেও চট্টগ্রাম বইমেলায় গিয়েছি কিন্তু একজন লেখক হিসেবে এই যাচ্ছি প্রথম। এজন্য চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনা এবং চৌধুরী ফাহাদকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তার কবিতার অনুরাগী ছিলাম, এবার প্রকাশক হিসেবে তার উড়াউড়ি মুগ্ধকর।’

এদিকে বাতিঘর থেকে এবার প্রকাশ পেয়েছে উপন্যাস ‘শিশির জলের নোলক’। একদিকে যেমন নৈতিক বিশুদ্ধতার প্রতীক অন্যদিকে এখানে বর্তমান সমাজের নৈতিক স্খলনের প্রতি প্রচ- ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মূলধারা থেকে বিচ্যুতি ঘটেনি একটুও। ‘শিশির জলের নোলক’ উপন্যাসটি ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলে।

শুধু বাঙালিই নয় ভিনদেশিরাও এসেছিলেন বাঙালির প্রাণের এই বইমেলায়। সেজেছে বাঙালি সাজে। আকৃতিতে লম্বা হওয়ায় ভিড়ের মাঝেও তাদের সহজেই চোখে পড়ে। কৌতূহলী চোখ আর মুখে লেগে আছে হাসি।

তবে কারও কারও কাছে আজকের এই মেলা অনেকটা যুদ্ধের মতোই মনে হচ্ছে। মানুষের মিছিলে হারিয়ে যাওয়ার ভয় অনেকের। তাই পরিবার-পরিজনকে নিবিড় চোখে রাখছেন প্রায় প্রত্যেকেই।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 168 People

সম্পর্কিত পোস্ট