চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

দুই ওসিসহ সাত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর মামলা

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক হ

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ টাকা আদায়

দুই ওসিসহ সাত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর মামলা

ব্যবসায়ীর মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই দফায় ২৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তবে দুই ওসি অভিযোগকারীকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের এডিশনাল চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলাটি করেছেন মো. ইয়াছিন নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি নগরীর খুলশী থানার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকার মেসার্স ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজ নামে রড-সিমেন্টের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
মামলায় আসামিরা হলেন- বায়েজিদ বোস্তামী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার, একই থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) প্রিটন সরকার, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফতাব, এএসআই মো. ইব্রাহিম ও মিঠুন নাথ এবং কনস্টেবল সাইফুল ও রহমান। এদের মধ্যে আতাউর রহমান খন্দকার বর্তমানে চান্দগাঁও থানার ওসি এবং প্রিটন সরকার বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

বাদীর আইনজীবী শহীদুল হক সুমন জানান, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে থানায় নিয়ে এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে দ-বিধির ৩৪৭, ৩৬৪, ৩৮৭, ৩৮৮ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। আদালত মামলা আমলে নিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারকে (প্রশাসন) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

মামলার আরজিতে বাদি নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নুর মোহাম্মদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান এসআই আফতাব, এএসআই ইব্রাহিম ও মিঠুন এবং কনস্টেবল সাইফুল ও রহমান। মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিদর্শক প্রিটন সরকারের কক্ষে বসিয়ে তার কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ওসি আতাউর রহমান খন্দকার ওই কক্ষে এসে ২০ লাখ টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার নির্দেশ দিয়ে চলে যান। নুর মোহাম্মদ তার ভাইয়ের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা প্রিটনের হাতে তুলে দিলে বিকেল ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দিয়ে একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে একইভাবে তাকে আবারও থানায় নিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি এ বিষয়ে পুলিশের আইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং সিএমপি কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ‘আমি নুর মোহাম্মদ নামে কাউকে চিনি না। এই ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানি না। আমি গত নভেম্বর মাসে বায়েজিদ বোস্তামী থানা থেকে চান্দগাঁও থানায় বদলি হয়েছি। চারমাস পর এসে এই ধরনের অভিযোগ কেন আনা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, ‘আমার রুমে বসে কারও কাছে টাকা দাবি কিংবা টাকা নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি উনারে (নুর মোহাম্মদ) চিনিও না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 70 People

সম্পর্কিত পোস্ট