চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

‘সংস্কৃতির আলোয় অন্ধকার জগত আলোকিত করতে হবে’

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সংস্কৃতির আলোয় অন্ধকার জগত আলোকিত করতে হবে’

সংস্কৃতির আলোয় অন্ধকার জগত আলোকিত করতে হবে অভিমত প্রকাশ করে বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেছেন, আজ বাঙালি জেগেছে। তার মধ্যেও কিছু কালো রেখা, অন্ধকার দিক আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, পঞ্চাশ-ষাটের দশকে যখন আমরা ঔপনিবেশিক শাসনে পর্যদস্ত সেই সময় সংস্কৃতিকর্মীরা এগিয়ে এসেছিলো। রমনার মাঠসহ ঢাকায় অনেক উৎসব দেখেছিলাম মানুষকে জাগানোর জন্য।

তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে তখনও সংস্কৃতিকর্মীরা উৎসব, আন্দোলন, ভাষার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে জাগানোর চেষ্টা করেছিল। আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নগরীর জামালখান ডা. এমএ হাশেম চত্বরে প্রথম সম্মিলিত বসন্ত উৎসবের উদ্বোধনকালে  এসব কথা বলেন তিনি। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। ড. সেন বলেন, বাংলাদেশ মুখ্যত গ্রামীণ সমাজ। এখানে বহুকাল ধরে বিভিন্ন ঋতুকে বরণ করে নিই। বিশ্বে বাংলাদেশের মতো এতো সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সুন্দর দেশ আমি আর দেখিনি। বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি। যেখানেই থেকেছি এ দেশের জন্য বেদনা অনুভব করেছি। এদেশে মানুষ পাটি বিছিয়ে ঘুমোতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশে এটি সম্ভব হয় না আবহাওয়ার কারণে। এদেশে ঋতুগুলো ভারি চমৎকার। বলা হয়ে থাকে, বারো মাসে তেরো পার্বণ। দিন যাপনের গ্লানি থেকে কয়েকটি দিন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি নিজেকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আজ পহেলা ফাল্গুন। কবি লিখেছেন-ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। এটা প্রাণের কথা, আবেগের কথা। এ আবেগটাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এ আবেগের কারণেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এ আবেগই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করেছে। এ আবেগই ভবিষ্যতে বাঁচার প্রেরণা। এটা এমনই আবেগ, যখন সাতই মার্চ জাতির পিতা বলেছিলেন আর দাবায়া রাখবার পারবা না। তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে চেতনায় উজ্জীবিত আবেগী বাঙালি প্রমাণ করেছিলো আমাদের দাবায়া রাখা যায় না। তারই কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়া শুধু রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে নয়। আমাদের সাংস্কৃতিক জগতকে যত ঋদ্ধ, সমৃদ্ধ করতে পারবো আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া, সাংস্কৃতিক মননের মধ্যে বিশাল পরিবর্তন ছাড়া একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় না।

অনুষ্টানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। এরপর রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন রক্তকরবীর শিল্পীরা।  শিল্পী দোলন কানুনগোর মোহন বীণার সুরে শুরু হয় উৎসব। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে মোহন বীণার সুর ছড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন তিনি। ঢৌড়ি রাগে ১৫ মিনিটের অপূর্ব সুর মূর্ছনায় তবলায় ছিলেন রতন কুমার দত্ত। উপস্থাপনায় ছিলেন দিলরুবা খান, দেবাশীষ রুদ্র প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 163 People

সম্পর্কিত পোস্ট