চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাবে বিএনপি

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগর বিএনপির সভায় মির্জা ফখরুল

আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাবে বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপির কর্মী সভাও এখন জনসভায় পরিণত হচ্ছে। বিএনপির কর্মী বলতে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। সমস্ত জনগণই হচ্ছে বিএনপির কর্মী। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য বহুবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা পারেনি। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মত জেগে উঠেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি স্থানীয় সরকারসহ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) বিকালে মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, এই বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবার অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন। এই চট্টগ্রামে কিছু বিপদগামী সেনা কর্মকর্তা তাকে হত্যা করেছে। চট্টগ্রাম একটি ঐতিহাসিক জায়গা। এই চট্টগ্রামের মানুষ সকল আন্দোলন সংগ্রামে এগিয়ে থেকেছেন। তিনি চট্টগ্রামবাসীকে তারেক রহমানের সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছি। এত কঠিন সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। যারা এক সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিল তারাই এখন গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। তারা সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা

মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। তিনি এখন গুরুত্বর অসুস্থ, তিনি সেই নেত্রী যিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য-এদেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছেন। আর এ সরকার তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ সরকারের জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে আছে।

তিনি আরো বলেন, এই আওয়ামী লীগ কিন্তু কেয়ারটেকার সরকারের দাবি নিয়ে এসেছিল। তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল, হরতাল করেছিল। জনগণের দাবি আমরা মেনে নিয়েছিলাম, কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তারা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের গদি রক্ষার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের বিধান তুলে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্বৈরাচারকে সহযোগিতা করে সংবিধানে এমন সব আইন সংযোজন করে। এসবের বিরুদ্ধে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, যারা বিএনপি করেন, অঙ্গসংগঠন করেন, আপনারা কখনোই হতাশ হবেন না। আপনাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, খুন করছে, গুম করছে, তারপরও আপনারা কিন্তু মাথা নোয়াননি। হার স্বীকার করেননি। সেজন্য বলছি, হতাশা কখনো আপনাদের আসল জায়গায় পৌঁছে দেননি। বিএনপির দিকে মানুষ আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। বিএনপি আন্দোলন শুরু করবে, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করবে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, আমাদের নেতাকমীদের হত্যা করে, মামলা দিয়ে জেলে পুরে, গুম করে এই দেশের দেশপ্রেমিক মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। আজ সরকারের অবস্থা কি হয়েছে ? তারা একটা নতজানু সরকারে পরিণত হয়েছে। সরকার নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য যখন যে যা-ই হুকুম দিচ্ছে, সেটাই মেনে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় চূড়ান্ত হয়নি, তিনি এখনও জামিন পাবার যোগ্য। এদেশে অনেক মন্ত্রী-এমপির সাজা হয়েছিল, কিন্তু মন্ত্রীত্ব টিকে ছিল। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীরেরও সাজা হয়েছিল। এমনকি ইয়াবা স¤্রাট বদিরও সাজা হয়েছিল। তারা জামিন পেয়েছেন অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের একটাই ভয়, যদি খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তাহলে এই অন্যায়ভাবে হত্যা-নির্যাতন করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, লুটপাট করছে সেটা করতে পারবে না। কিন্তু এদেশের জনগণ কখনোই এই অন্যায় মেনে নেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এমন একটি সময়ে আমরা সমাবেশ করছি যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, মানবাধিকার নেই। ভোটাধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে বার বার। গণতন্ত্রের নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছে এই অবৈধ সরকার। মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের প্রতিহিংসার শিকার তারেক রহমানকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সবাই মামলার শিকার হয়েছে। তারপরও তারা মাঠে ছিল, মাঠে থাকবে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আগের মত এখনো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে আবারও গ্রেপ্তার নির্যাতন শুরু করেছে। সরকার দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ধ্বংস করে ফেলেছে। দেশে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, ভোটাধিকার নেই, বাকস্বাধীনতা নেই। আছে স্বৈরতন্ত্র, নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও দুঃশাসন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্করের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম. এ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 104 People

সম্পর্কিত পোস্ট