চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

পূর্বাঞ্চল রেলের এক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৮৬৩ খালাসি নিয়োগের অনিয়ম-দুর্নীতি

পূর্বাঞ্চল রেলের এক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব বিবরণী

৮৬৩ জন খালাসি নিয়োগের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। গতকাল রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ পৃথকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যও গ্রহণ করেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদকৃতরা হলেন : রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জুনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার (পূর্ব) মো. আব্বাস উদ্দিন, বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোলার (পাহাড়তলী) সাইদ হোসেন খোকন, প্রধান সহকারী (সংস্থাপন বিভাগ) মমিনুল ইসলাম মামুন, অফিস সহকারী (পিআরও) শামসুল আরেফিন ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অর্নব এসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী (সাবেক ঐশী এন্টারপ্রাইজ) কাউসার আলম।

এর আগে গত সপ্তাহে ৮৬৩ খালাসি নিয়োগের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ ফারুক আহম্মদ ও ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ২৪ জনকে তলব করে পৃথক পৃথক নোটিশ পাঠায় দুদক। তাদের মধ্যে এ পাঁচজনকে গতকাল রবিবার হাজির হতে বলা হয়। বাকিদের বিভিন্ন সময়ে হাজির হতে নির্দেশ দেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
দুদক সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার জিজ্ঞাসাবাদে বেলা ১১টায় প্রথম ধাপে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের জুনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার আব্বাস উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তা। দ্বিতীয় ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রেলওয়ের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অর্ণব এসোসিয়েটের সত্ত্বাধিকারী (সাবেক ঐশী এন্টারপ্রাইজ) কাউসার আলমকে। এরমধ্যে দুদকের চাহিদা মতো তথ্য নিয়ে হাজির না হওয়ায় ঠিকাদার কাউসার আলমকে ফেরত পাঠানো হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে হাজির হন দুদক কার্যালয়ে। খালাসি নিয়োগের অনিয়মের বিষয়ে তৃতীয় ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জনসংযোগ অফিসের অফিস সহকারী শামসুল আরেফিনকে। চতুর্থ ধাপে সংস্থাপনা বিভাগের প্রধান সহকারী মমিনুল ইসলাম মামুন ও শেষ পর্যায়ে বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোলার (পাহাড়তলী) সাইদ হোসেন খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৮৬৩ খালাসি নিয়োগ ছাড়াও এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রেলওয়ের নানান অনিয়মের তথ্য ওঠে এসেছে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে। তাদের প্রত্যেকের স্ত্রী-সন্তানসহ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল ও ফটোকপি, পাসপোর্টের কপি ছাড়াও এই পাঁচজনের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবের হিসাব বিবরণীর তথ্যও জব্দ করে দুদক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘৮৬৩ খালাসি নিয়োগের সময় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে। যার জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। এছাড়া এসব কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে। এ পাঁচজন ছাড়াও এসব কাজে রেলওয়ে অফিসের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি’।

প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ৮৬৩ জন খালাসি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সে নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। পরীক্ষার পর পরই নিয়োগ কমিটির এক সদস্য মারা যান এবং এক সদস্য বদলি হন অন্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তাদের ওই দুইজনের স্থলে কাউকে সংযুক্তি না করেই ২০১৯ সালের ১১ মে-তে ফলাফল ঘোষণা করেন কমিটির বাকি তিন সদস্য। এরপর থেকেই এ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছর এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

The Post Viewed By: 113 People

সম্পর্কিত পোস্ট