চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ‘চাঁদের গাড়ি’

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

এস.এম. মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট

ঘটছে প্রাণহানি, হারাচ্ছে হাত-পা

মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ‘চাঁদের গাড়ি’

ফটিকছড়ি উপজেলার প্রধান আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় প্রধান সড়কে পথচলা মানুষের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম অবৈধ বেপরোয় চাঁদের গাড়ি। অবৈধ হলেও ওই গাড়ির বিচরণ সবখানে। প্রশাসন দেখেও যেন দেখছে না। উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ওই গাড়ির কারণে হচ্ছে। চুপিচুপি সামলানো যায় বলে গ্রামের অনেক দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ হয় না।

স্থানীয় গ্যারেজে গাড়িগুলো তৈরি হয়ে থাকে। গাড়ির বাহিরের অংশবিশেষের বেশিরভাগই লোহা দিয়ে তৈরি। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলেই তা মরণ ঘাতিতে পরিণত হয়। চাঁদের গাড়ির নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। গাড়ির চালকেরা অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়সী, মাটি কাটার লোক কিংবা বালি তোলার শ্রমিক। বনদস্যুরা নিরাপদ ও সহজ বাহন হিসেবে গাড়িগুলো ব্যবহার করছে। খোদ নাজিরহাট বাজারে রয়েছে চাঁদের গাড়ির তিনটি বড় স্টেশন। এছাড়া উপজেলা সদর হতে শুরু করে ফটিকছড়ির সব বাজারেই রয়েছে চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ড। গ্রামীণ সড়কগুলোর ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এই চাঁদের গাড়ি।

গাড়িগুলোর দুর্ঘটনায় মানুষের ঘটছে প্রাণহানি, হারাচ্ছে হাত ও পা। গতবছর (২০১৯) নভেম্বরে উপজেলার নানপুর-খিরাম সড়কে গাছ বোঝাই চাঁদের গাড়ির চাপায় ধুমড়ে-মুচড়ে যায় অটোরিকশা। এ ঘটনায় সাইদুল হক (৫৫) নামের এক বাবুর্চি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ওই বছরের মে মাসে উপজেলার ভূজপুরের নারায়ণ হাটে চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় মুহাম্মদ সোহেল (১৭) নামের এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের নাজিরহাট এলাকায় বেপরোয়া চাঁদের গাড়ি হালদা নদীতে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় গাড়ির চালক-হেলপার। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি (আঞ্চলিক মহাসড়ক) নাজিরহাট এলাকায় বেপরোয়া চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় শাহাআলম (৫০) নামের এক খাবারের হোটেল ব্যবসায়ীর ডান পা ঘটনাস্থলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর গাড়ির চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। গত ২৩ জানুয়ারি উপজেলার মাইজভা-ার আমতলিতে চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে প্রাণ গেল রাজেদুল ইসলাম (৬) নামের এক শিশুর। উক্ত দুর্ঘটনার ঘটনাদ্বয়ে গাড়ি কিংবা চালক বৈধ না হওয়ায় ঘাতক গাড়ি কিংবা চালক, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। ফলে, নানান অপরাধ করেও সহজে পার পেয়ে যাওয়াতে উপজেলাতে দিনদিন ওই ঘাতক চাঁদের গাড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মতে, এই দেশে যার যা ইচ্ছা তাই করা যায়। মনে হয় যেন কোন আইনই নেই। যে গাড়ির চালক, মালিক পর্যন্ত অবৈধ সেখানে তো সবসময় জান-মালের ক্ষতি হবে। অবাক লাগছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউই গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না। কারণ গাড়িগুলো অবৈধ। অথচ প্রকাশ্যে গাড়িগুলো রাজার হালে চলছে। গাড়িগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে জোর দাবি জানানো হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, সত্যি গাড়িগুলো বেপরোয়া। গ্রামীণ সড়কগুলো বেশিরভাগই গাড়িগুলোর কারণে শেষ হচ্ছে। এই নিয়ে আগামী আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
ফটিকছড়ি উপজেলার ট্রাফিক সার্জেন্ট নূরুল আলম বলেন, গাড়িটি বেপরোয়া তা ঠিক। আমরা কিছু গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। শতভাগ তো করা সম্ভব না। অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে গেলে কারো না কারো তদবির আসে। তবে, পুলিশ, পাবলিক ও জনপ্রতিনিধি সবাই সচেতন হলে এই গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। নতুন আইনের মামলা বই আসলে চাঁদের গাড়ির ব্যাপারে পুলিশ আরো কঠোর হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 149 People

সম্পর্কিত পোস্ট