চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিএনপি নেতা শামসুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ | ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

তেল ক্রয়ের নামে এবি ব্যাংকের ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৮২৩ টাকা আত্মসাৎ

বিএনপি নেতা শামসুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আলমসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। তেল ক্রয়ের নামে এবি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-চট্টগ্রাম-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৮২৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মো. শামসুল আলমের ছেলে নাহার ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়াইব, নুরজাহার গ্রুপের মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহাম্মদ ও তার ভাই একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার রিলেশনশিপ ম্যানেজার মো. আশরাফুল আজিজ।

মামলা গ্রহণকারী দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্বকোণকে বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া তথ্য ও দলিল দিয়ে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করে এবি ব্যাংকের ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৮২৩ টাকা ঋণ নেয়। তবে ঋণ নেওয়ার পর মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ছদ্মবেশে সেই ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করে। যার বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১ আগষ্ট এবি ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর মোসার্স মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স ‘মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড’ থেকে ৬৭ হাজার ২০৪ টাকা দরে ৩,২৭৩ মেট্রিক টন সেমি রিফাইন্ড পাম অয়েল ক্রয়ের জন্য ‘মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের’ প্যাডে স্বাক্ষরিত একটি সেলস কন্ট্রাক্ট দাখিল করেন। ঋণ আবেদনে ইলিয়াস ব্রাদার্সের পক্ষে এমডির স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সেল্স কন্ট্রাক্টে মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহাম্মদের স্বাক্ষর থাকলেও ইলিয়াস ব্রাদাসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর ছিলো না।

ব্যাংক আবেদনের পর একই মাসের ১২ আগষ্ট মাররীন ভেজিটেবল অয়েলেসের পে অর্ডার ইস্যু করা হয়। পে অর্ডারটি একই মাসের ১৬ তারিখে এম/এস মাররীন ভেজিটেবল অয়েলের নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের একাউন্টে জমা হয়। এর একদিন পরই ওই একাউন্ট থেকে ‘নাহার ট্রেডিং কর্পোরেশন’ এর নামে ১০ কোটি টাকা এবং অন্য চেকে ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৮২২.৮০ সহ সর্বমোট ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ৮২২.৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এসব টাকা খাতুনগঞ্জ শাখার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের তিনটি ঋণ হিসাবের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এই একাউন্ট ইলিয়াস ব্রাদাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আলমের পুত্র মো. শোয়াইব।

এজহারে আরও বলা হয়, মূলত শামসুল আলম মাারবীণ ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহম্মেদের সাথে পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের আাড়লে ভুয়া সেল্স কন্ট্রাক্ট দাখিল করে এবি ব্যাংখ লিমিটেডের ঋণ আবেদন করে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

 

 

পূর্বকোণ/রাজু-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 179 People

সম্পর্কিত পোস্ট