চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

থাকা-খাওয়ায় দ্বিগুণ খরচ শিক্ষার্থীদের নগরীতে হোস্টেল সমস্যা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

থাকা-খাওয়ায় দ্বিগুণ খরচ শিক্ষার্থীদের নগরীতে হোস্টেল সমস্যা

নগরীর সরকারি পাঁচ কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে কোনো ছাত্রাবাস না থাকলেও প্রায় ৮০০ ছাত্রীর হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে।
ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম কলেজের তিনটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস বন্ধ রয়েছে। একই ঘটনায় বন্ধ হয়েছে মহসিন কলেজের দুটি ছাত্রাবাস। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর এই দুইটি কলেজের ছয়টি হোস্টেল বন্ধ করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ৩০ বছর আগে একই কারণে বন্ধ হয়েছিল সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্রাবাস। নগরীর সরকারি কলেজের হোস্টেল বন্ধ থাকায় আবাসন সমস্যায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ‘নিরাপত্তার অভাবে’ এখনো হোস্টেল খুলে দেওয়ার সময় হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর সরকারি পাঁচ কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এরমধ্যে চট্টগ্রাম কলেজে রয়েছে ১৭ হাজার। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে রয়েছে ১৪ হাজারের অধিক। সরকারি মহিলা কলেজে সাড়ে আট হাজার, সিটি কলেজে ১৬ হাজারের অধিক এবং সরকারি কমার্স কলেজে ৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে কোনো ছাত্রাবাস নেই, তবে চট্টগ্রাম কলেজ, মহিলা কলেজ, সিটি কলেজ এবং কমার্স কলেজে প্রায় ৮০০ ছাত্রীর হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে।
চট্টগ্রাম কলেজে মোট চারটি হোস্টেলই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ চারটি হোস্টেলে মোট ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। তিনটি ছাত্রাবাসে প্রায় সাড়ে ৩০০ জনের বেশি এবং ১টি ছাত্রীনিবাসে ১০০ থেকে ১২০ জন ছাত্রী আবাসিক সুবিধা পেত। চট্টগ্রামের সব চেয়ে বড় এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আগের সবগুলো হোস্টেল বন্ধ থাকলেও নতুন করে একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। ‘শেখ হাসিনা’ নামের এই হোস্টেলে ১০০ ছাত্রী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে দূরদূরান্ত থেকে এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এছাড়াও, ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ছাত্রাবাস, মেসে ও ফ্যামিলি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে অতিরিক্ত অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের ব্যাপক সংঘর্ষের পর কর্তৃপক্ষ এ চারটি হোস্টেল বন্ধ করে দিয়েছে। যা এখনো পর্যন্ত চালু করা হয়নি। তবে নতুন একটি ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মুজিবুল হক চৌধুরী। বর্তমানে পুরাতন হোস্টেলগুলি ব্যবহারে উপযোগী নয় বলে জানান তিনি। কখন থেকে ছাত্রাবাস চালু করা যাবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামের অন্যতম সরকারি হাজী মো. মহসিন কলেজে প্রায় ১৪ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৬০ আসনের দুটি হোস্টেল ছিল। এরমধ্যে একটি ছাত্রদের, অন্যটি ছাত্রীদের হোস্টেল। ‘নিরাপত্তার’ অভাবে ছাত্রীরা হোস্টেলে থাকতেন না। তাই ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হলেও ওই হোস্টেলে ছাত্ররা থাকতেন। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম কলেজের সাথে মহসিন কলেজের দুটি হোস্টেলও বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে বর্তমান ছাত্রীর সংখ্যা হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার। এই সাড়ে ৮ হাজার ছাত্রীর জন্য দুইটি হোস্টেলে ৫০০ ছাত্রী আবাসন সুবিধা রয়েছে। মাদার তেরেসা হলে ২৮০ জন এবং ক্যাপ্টেন রওশন আক্তার হলে ২২০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী জানান, আবাসন সংকটের কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে একটি ৫ তলা হোস্টেল নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী জুন-জুলাই মাসে ভবনের দোতলার কাজ শেষ হবে আশা করছি। হোস্টেলটি চালু হলে এতে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাবেন। আর পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হতে আরো দেড় বছরের মত সময় লাগবে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে একটি ছাত্রীবাস থাকলেও কোনো ছাত্রাবাস নেই। এই কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজারের অধিক। যার প্রায় অর্ধেক ছাত্রী রয়েছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনজু আহম্মদ। প্রায় ৮ হাজার ছাত্রীর বিপরীতে হোস্টেল সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১০৮ জন। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেলের আবেদন করেও সিট পান না অধিকাংশ ছাত্রী।
শীঘ্রই নতুন একটি হোস্টেল চালু হবে। যেখানে আরো ২০০ অধিক ছাত্রী হোস্টেল সুবিধা পাবেন। হোস্টেলটির নির্মাণ কাজ শেষ। গ্যাস এবং পানির লাইন পেলেই আমরা হোস্টেলটি চালু করে দিব। তবে ছাত্রদের হোস্টেল নিয়ে এখনি কিছু ভাবছেন না কলেজ কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্রাবাস। ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন ছাত্র নিহত হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে এটি করে দেওয়া হয়। তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসটির ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এ ভবনে এখন পোকা-মাকড় বাসা বেঁধেছে।
এ সম্পর্কে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ফেরদৌস আরা জানান, ৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এই কলেজে। বর্তমানে ছাত্রবাস না থাকলেও ছাত্রীদের জন্য একটি ছাত্রীবাস রয়েছে। যেখানে প্রায় ১০০ জন ছাত্রী আবাসন সুবিধা ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে ৮০ জন ছাত্রী রয়েছে। এছাড়া, ছাত্রীদের জন্য আরো একটি ৫ তলা হোস্টেল নির্মাণাধীন রয়েছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ব্যবহারের উপযোগী হলেই আমরা দ্রুত ছাত্রীদের জন্য চালু করবো। যেখানে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ জন ছাত্রী আবাসন সুবিধা পাবেন।

লেখক ঁ নিজস্ব প্রতিবেদক

The Post Viewed By: 572 People

সম্পর্কিত পোস্ট